1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

অনিয়মে জড়িতদের শাস্তি থেকে রক্ষা নেই :প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৯ বার দেখা হয়েছে

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ অবসরে গিয়ে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী গতকাল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রকল্পটি দুই দফায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকায়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি এখন মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ করতে চূড়ান্তভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা এই প্রকল্পের বিলম্বের ক্ষেত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলেছেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ৯ বছরেও এর কাজ শেষ হয়নি। ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে একনেক সভায় প্রথম সংশোধনী এনে এক দফা ব্যয় ও সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে একনেক বৈঠকে এর দ্বিতীয় দফা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হলে প্রকল্প প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের সার্বিক দিক তদন্ত করে গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদেন একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করে। এর পরে অনিয়মে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, সরকারি চাকরিতে থাকাকালে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। কোনো কর্মকর্তা আর্থিক অনিয়ম করেছেন কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবসরে গেছেন বা চাকরিতে নেই, তখন পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্টের (পিডিআর) মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল অনুুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সংশোধিত। নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ ও সংশোধিত প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৬ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ২৭৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের একটি টিউবের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। টানেলের অপর টিউবটি আগামী শুক্রবার উন্মুক্ত হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য ছিল। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সায়েদাবাদ পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-৩-এর প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি এখন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২ লাখ টাকা। এতে ব্যয় বাড়ল ২ হাজার ৯২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুনে শেষ হয়েছে। এখন মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সভায় ২১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়েছে ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সভায় ৪ হাজার ৫২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৭২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এছাড়া ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম সংশোধনী থেকে এর ব্যয় বেড়েছে ৪৫৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

এছাড়া সভায় ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৩৫৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জগন্নাথপুর এবং মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) স্থাপন প্রকল্প, ১৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীর তীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খালবিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, ৩১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর জেলার কীর্তিনাশা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি