1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
  3. [email protected] : lalashimul :
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

এত সিম পায় কিভাবে?

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১২১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করতে গিয়ে অভিনব সব প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ খাতে সক্রিয় শতাধিক প্রতারণাকারী। প্রশ্ন উঠেছে, প্রতারকরা সিমটা পাচ্ছে কীভাবে? জানা গেলো, বেশিরভাগ প্রতারকই সিম তুলছে অন্যের নাম ও আঙুলের ছাপে। আর তাই চক্রের বড় একটি অংশ থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের আগে এই ধরনের অভিযোগ অনেক কম ছিল। করোনার এ সময়ে তা বেশ বেড়েছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের দেওয়া তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৯টি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার অভিযোগ এসেছে। এরমধ্যে ৪২টি মামলা হয়েছে। ১৫টি অভিযোগের সমাধান হয়েছে। বাকিগুলোর তদন্ত চলছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, একই ঘটনা এতবার ঘটার পরও সাধারণ মানুষ প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে ফেলছে। তাদের কাছ থেকে অ্যাকাউন্টের পিনকোড চেয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। পিনকোড দিলে অ্যাকাউন্টের টাকা হাতছাড়া হবে জেনেও অধিকাংশ মানুষ এই ভুল করছে। এর চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো নিরীহ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা একাধিক সিম দিয়ে ঘটানো হচ্ছে এসব অপরাধ। যার সিম, দেখা গেল সে এসবের কিছুই জানে না।
সিআইডির এই পুলিশ সুপার বলেন, আমরা একাধিক অভিযানে এমন অনেক সিমের তথ্য পেয়েছি। যেগুলোর নিবন্ধন অপরাধীর নয়, অন্য আরেকজনের নামে। এতে অপরাধীকে ধরতে আমাদের যেমন বেগ পেতে হচ্ছে, সিমের মালিকও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নিজের এনআইডি’র বিপরীতে কতগুলো সিম রয়েছে সেটিও একজন সচেতন মানুষের জানা উচিত।
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেক নামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তার সহপাঠী বন্ধুর ফেসবুক থেকে ম্যাসেজ পান। সেই ম্যাসেজে পলাশের কাছে থেকে ধারের ৮ হাজার টাকা ফেরত চেয়েছে তার সহপাঠী। দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে ইনবক্সে দেওয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা দিয়ে দেয় খালেদ। টাকা পাওয়ার পরে ফেসবুক থেকে চলে যায় তার বন্ধু। এবার খালেদ তার বন্ধুকে ফোন করলে, সে বিষয়টি জানে না বলে জানায়। খালেদ সঙ্গে সঙ্গে সিআইডিকে বিষয়টি অবহিত করে।
সিআইডি বলছে, খালেদের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশকে বিষয়টি জানাই আমরা। তারপর ঐ দুই নম্বরের লেনদেন বন্ধ রাখতে অনুরোধ করি। ততক্ষণে ‘ক্যাশ আউট’ করে ফেলে প্রতারক। এবার অপরাধীকে ধরতে মাঠে নামি আমরা।
সিআইডির পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রথমে ফোন নম্বর রেজিস্ট্রেশনের তথ্য বের করি। সে তথ্যে যে নাম ঠিকানা পাই, সে অনুযায়ী যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। পরে দেখা যায়, যশোরের এক মধ্যবয়সী নারীর নামে ঐ সিম নিবন্ধন করা। সিআইডির অভিযোগ শুনে, পরের দিন সকালে সিআইডি সদরদফতরে আসেন ঐ নারী। তখন আমরা বুঝতে পারি, এই নারী জালিয়াতি সিম নিবন্ধনের ভিকটিম। বিকাশের ক্যাশ আউট সেন্টারের ঠিকানা ধরে সিআইডি পরে প্রতারক জামালকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জামাল জানায়, প্রথমে চক্রটি ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাক করে। সেখানকার কথাবার্তা অনুসরণ করে। যার সঙ্গে যে সম্পর্ক সেটা মাথায় রেখেই বিকাশে টাকা চায় তারা। তখন অবিশ্বাস করার সুযোগ থাকে না।
সিআইডি জামালের কাছ থেকে আরও জানতে পারে, এমন নিবন্ধন করা ৫০ থেকে ১০০টির মতো সিম তার কাছে রয়েছে। এর কোনওটিই তার নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নয়। এমনকি তার পরিবার বা পরিচিত কারওর নামেও নয় সিমগুলো। প্রতারণা সফল হলে সিমটি নষ্ট করে ফেলা হয়। জামাল জানায়, সিমগুলো সে যশোর থেকেই দ্বিগুণ দামে কিনেছিল।
সিআইডি পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল হাসান বলেন, যখন সিম রেজিস্ট্রেশন প্রথম শুরু হয়, তখন অনেক শিক্ষিত মানুষের কাছে থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি একাধিক সিম নিবন্ধন করিয়ে নেন। পরে সেগুলো অপরাধীদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতারক চক্রের টার্গেট থাকে, এই ধরনের সিম সংগ্রহ করা। আমরা এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জড়িত যত প্রতারককে গ্রেফতার করেছি তাদের কাছে থাকা বেশিরভাগ সিমই নিরীহ মানুষের নামে নিবন্ধন করা। যা ঐ সিম মালিকরা জানেন না। সিআইডি পুলিশ বলছে, আমরা বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সিম অপারেটরদের জানিয়েছি।
যেভাবে নিজের রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম দেখবেন
একটি এনআইডির বিপরীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিমের সংখ্যা জানতে *১৬০০১# লিখে ডায়াল করতে হবে। এরপর এনআইডির শেষ চারটি ডিজিট লিখতে হবে। কিছুক্ষণ পর একটি বার্তা আসবে। সেখানে আপনার নামে কোন কোম্পানির কতগুলো সিম আছে তা দেখাবে। অপরিচিত নম্বর দেখামাত্রই যোগাযোগ করতে হবে কাস্টমার কেয়ারে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি