1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার বিমানবন্দর, সমুদ্রের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দেশের দীর্ঘতম বিমান রানওয়ে

আবু তাহের বাপ্পা
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪
  • ৮১ বার দেখা হয়েছে

আবু তাহের বাপ্পা : বঙ্গোপসাগরের বুক ছুঁয়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিনন্দন রানওয়ের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে। আগে কক্সবাজার রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ছয় হাজার ফুট। পরে তা তিন হাজার ফুট বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হয়। বর্তমানে এক হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। আর এই রানওয়ের সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে এটিই হবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম রানওয়ে। কারণ হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রায় পঁচাশিভাগ শেষ। নতুন ১ হাজার ৭০০ ফুটসহ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এখন দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। সঠিক সময়ের চেয়ে কিছু সময় বেশি লাগছে কারন সিভিল এভিযেশনের কাজের সাথে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি সহ কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট একই সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের ভিতরে ভূমি অধিগ্রহন ও পুনর্বাসন এর জন্য কাজে দেরি হওয়া সঠিক সময় বিমানবন্দরের কাজ সম্পূর্ন’না হওয়ার আশস্কা করেছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যাত্রী ভবন নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পে কিছু কাজ সংযোজন করায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দর শুধু পর্যটন নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার।১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রসৈকত সবসময় পর্যটকে মুখরিত থাকে। তবে এর মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এতদিন কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ের দৈর্ঘ্য কম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকায় সব ধরনের বিমান চলাচল করতে পারত না। তাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকদের ঢাকা হয়ে কক্সবাজার যেতে হতো। আর এর ফলে তাদের নানারকম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এসব ভোগান্তি দূর করার জন্য রানওয়ে ও টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করতে ২০১২ সালে একটি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প অন্যতম।

১৯৫৬ সালে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দর যাত্রা শুরু করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পরে সংস্কার করে আবার বিমানবন্দর সচল করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে যাচ্ছে কক্সবাজার। সমুদ্রজলের এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে দেশের দীর্ঘতম।

নানারকম প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ২০২১ সালে শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। শেষ হয়েছে ১০৫ একর ভূমি উন্নয়নের কাজ। একই সঙ্গে চলছে চারপাশে দুই কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ। এজন্য ফেলা হচ্ছে ৩০০ কেজি ওজনের বোল্ডার এবং চার টন ওজনের সিসি ব্লক, যার জন্য প্রথমে সমুদ্রের তলদেশে ব্লক নির্মাণ করা হয়। বিশাল ঢেউ থেকে সুরক্ষা দিতে কংক্রিট ফেলে গড়ে তোলা হয় বাঁধ। তারপর সেটির ভেতরে বানানো হচ্ছে স্থাপনা।

বিমান ওঠানামার জন্য সমুদ্রের দুই হাজার ২০০ ফুট অংশে বসানো হচ্ছে লাইট। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে রানওয়ের সুরক্ষার জন্য সমুদ্রতীরে রক্ষা বাঁধ নির্মাণ । সমুদ্রগর্ভে আরও প্রায় দুই হাজার ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ বিদ্যমান রানওয়েতে ক্যাট-২ এজিএল সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। দেশে এই প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, পুনর্বাসন সংশ্লিষ্ট কাজ (থোক), বিদ্যমান রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে বৃদ্ধিকরণ, রানওয়ে প্রশস্তকরণ, রানওয়ে শোল্ডার, ওভার রান নির্মাণ ইত্যাদি (২২০৬০৯.৬৯ বর্গ কিলোমিটার, বিদ্যমান গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট ও বাঁধের রক্ষাকাজ (৪২৮২০.৫২) বর্গ কিলোমিটার, ভবনাদি নির্মাণকাজ (পাওয়ার হাউস ও সিসিআর রুম)-সহ অন্যান্য কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

শুধু এলজিইডির ব্রিজের নির্মাণকাজ ৯৯.৯০ শতাংশ, বিডব্লিউডিবির বাঁধ নির্মাণকাজ ৯৯.৯৫ শতাংশ, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম-১ ও ডিভিওআর এবং আইএলএস স্থাপন কাজ ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের ৪র্থ সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনসহ চলতি ২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান, এলজিইডি ও বাপাউবোর কাজ ইত্যাদি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে সভা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন থেকে আকাশপথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে রাতেও ফ্লাইট নামবে সাগরঘেঁষা রানওয়েতে। একইভাবে সারা দিন কাটিয়ে রাতে ফেরা যাবে উড়োজাহাজে।
উল্লেখ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর তথা রিজিওনাল হাব হিসেবে দিতে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি