Warning: Creating default object from empty value in /home/jatioart/public_html/wp-content/themes/NewsFreash/lib/ReduxCore/inc/class.redux_filesystem.php on line 29
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের একাধিক অডিট আপত্তি – দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি
  1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. arthonite@gmail.com : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের একাধিক অডিট আপত্তি

আবু তাহের বাপ্পা
  • আপডেট : সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মোখলেসুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক, “কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প”। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রদর্শনী খামার খাতে ডিপিপিতে বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ৬,৮০,২৬,২৭২ টাকা ব্যয় করেছেন । ডিপিপি, এপিপি ব্যয় বিবরণী প্রদর্শনী খামার, খামার সংক্রান্ত নিরীক্ষা কালে দেখা যায় যে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের অর্থনৈতিক কোড (৩২৫১১০৪) প্রদর্শনী খামার খাতে ডিপিপিতে বরাদ্দ ছিল ১৩,৯৯,১৪,০০০/- টাকা । কিন্তু কন্দাল উন্নয়ন প্রকল্প ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যয় করা হয়েছে ২০,৭৯,৪০,২৭২/-টাকা। অর্থাৎ ডিপিপি ব্যয় করার অতিরিক্ত সরকারের আর্থিক ক্ষতি ২০,৭৯,৪০,২৭২-১৩,৯৯,১৪০০০=৬,৮০,২৬,২৭২ টাকা । কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপির বছর ভিত্তিক আর্থিক ও বাস্তব পরিকল্পনার সংযোজনী -৪ (ডিপিপির পৃষ্ঠা-৪২) মোতাবেক প্রদর্শনী খামার খাতে ১৫০ টি উপজেলার বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১৩,৯৯, ১৪০০০/টাকা। অতিরিক্ত ৬,৮০,২৬,২৭২ টাকা ব্যয় ডিপিপির নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে নিরীক্ষায়। অডিট আপত্তির জবাবে প্রকল্প পরিচালকদের বক্তব্য হলো ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে চাহিদা মতো বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্প লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। যা পিআইসি ও পিএসসি এর সুপারিশ ক্রমে অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় । কিন্তু নিরীক্ষা মন্তব্য হলো ডিপিপির বাইরে ব্যয় করার কোন সুযোগ নাই।

গবেষণা খাতে আর্থিক ক্ষমতা অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করায় অনিয়মিত ব্যয় ৪৮,৪৬,৬৭২/-(আটচল্লিশ হাজার ছয়শত বাহাত্তর) টাকা।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কৃষি সম্প্রসারণের আওতাধীন “কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প” এর ২০২১-২০২২ অর্থবছরে গবেষনা খাতে আর্থিক ক্ষমতা অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করায় অনিয়মিত ব্যয় ৪৮,৪৬,৬৭২/- টাকা।

কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের গবেষণা সংক্রান্ত নথি ও বিল ভাউচার, বরাদ্ধ ও ব্যয় বিভাজন, ক্যাশ বহি যাচাইয়ে দেখা যায় যে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে গবেষণা খাতে পরিশিষ্টে বর্ণিত ০৮টি বিলের মাধ্যমে ৪৮,৪৬,৬৭২/- টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আর্থিক ক্ষমতা অর্পন আদেশ, ২০১৫ (উন্নয়ন) ক্রমিক নম্বর-৩১ এর ক্রমিক নং-৩৮ বিধান অনুযায়ী ক শ্রেনীর প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে বছরে “৩২৫৭১০৩ গবেষণা” ব্যয়ের আর্থিক ক্ষমতা ৩০,০০,০০০/- টাকা কিন্তু বিভাগীয় প্রধানের ক্ষমতা ৫০,০০,০০০/- টাকা। উপরোক্ত আদেশ মোতাবেক প্রকল্প পরিচালক সর্বোচ্চ ব্যয় আর্থিক ক্ষমতার সীমা ৫০,০০,০০০/- টাকা। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে “৩২৫৭১০৩ গবেষণা” খাতে আর্থিক ক্ষমতা অতিরিক্ত মোট= (৯৮,৪৬,৬৭২-৫০,০০,০০০)= ৮,৪৬,৬৭২/-টাকা ব্যয় করা হয়েছে যা সরকারি আদেশের পরিপন্থী।

বিস্তারিত নিরীক্ষায় প্রকল্পের আরডিপিপি, ডিপিপি, পিএসসি সভার কার্যবিবরণী, সম্মানী ভাতা সংক্রান্ত বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প ৯৫,০০০/- টাকা, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প ৯০,০০০/-টাকা, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ৮৬,০০০/-টাকা, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প ৮৭,০০০/- টাকা, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প ২,০০,০০০/-টাকা, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ১,৬৪,০০০/- টাকা, লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প ১,৮৮,০০০/-টাকা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ১,১১,০০০/- টাকা, ভূগর্ভস্থ পানির সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের সেচ নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক সমীক্ষা কর্মসূচী ১,৮১,০০০/- টাকা এবং পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প ১,০৬,০০০/- টাকাসহ নির্ধারিত হার অপেক্ষা মোট (৯৫,০০০+ ৯০,০০০+ ৮৬,০০০+ ৮৭,০০০+ ২,০০,০০০+১.৬৪.০০০ + ১,৮৮,০০০+১,১১,০০+১,৮১,০০০+১,০৬,০০০)= ১৩,০৮,০০০/- টাকা অতিরিক্ত প্রদান করা হয়েছে।

ডিপিপি, আরডিপিপি এবং পিপিএনবি সংযোজনী অনুযায়ী প্রতিটি সভার জন্য পিএসসি/পিআইসি সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা আছে।

আলোচা ক্ষেত্রে ডিপিপি, আরডিপিপি এবং পিপিএনবি’র উক্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে পিএসসি এবং পিআইসি সভার জন্য নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য অপেক্ষা অতিরিক্ত সংখ্যক সদস্যকে সম্মানী ভাতা প্রদান করায় মোট ১১,৮৮,৮০০/ টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

বৈদেশিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করা সত্ত্বেও গৃহীত অগ্রিম বছরান্তে সরকারি কোষাগারে জমা না করায় আর্থিক ক্ষতি ১৬,০০,০০০/- (ষোল লক্ষ) টাকা।

কৃষি মন্ত্রানালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কৃষি সম্প্রসারণের আওতাধীন কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প “২০১১-২০১২ অর্থবছরে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করা সত্ত্বেও গৃহীত অগ্রিম বছরান্তে সরকারি কোষাগারে জমা না করায় আর্থিক ক্ষতি ১৬,০০,০০০/-টাকা।

প্রকল্পের প্রশিক্ষণ খাতের নথি জিও, চেক এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি নিরীক্ষাকালে দেখা যায় যে, কোড নং ৩২৪৪১০১ ভ্রমণ ব্যয় খাত হতে ব্যাচ নং ০২ এর বৈদেশিক প্রশিক্ষণ (নেদারল্যান্ড) সফরের জন্য অগ্রীম বাবদ ১৬,০০,০০০/- টাকা ১০ জনকে অগ্রিম প্রদান করা হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এর ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ অধিশাখা নং-০৭,১৫৬,০২৬,০০.০১.২০০৪(অংশ-২)-৪০৩, তারিখ: ১২ মে, ২০২২ খ্রি. তারিখে কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এর বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার এক্সপোজার ভিজিট/ স্টাডি ট্যুর এপিএ ও ইনোভেশন এর আওতাভুক্ত ভুক্ত এবং ওয়ার্কশপ/ সেমিনারে অংশগ্রহণের সকল প্রকার বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে মর্মে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সকল প্রকার বৈদেশিক ভ্রমণ সীমিতকরণ করা হয়। কিন্তু আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ বিধিমালা-২০১৫ এর ৩৮ এর (ঙ) অনুযায়ী অগ্রিম গ্রহণের মাধ্যমে কর্মকান্ড সম্পাদনের ২ মাসের মধ্যে অথবা অর্থবছরের ৩০ জুনের মধ্যে সকল অগ্রিম সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা পরিপালন করা হয়নি। আলোচাক্ষেত্রে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অগ্রিম বাবদ ১৬,০০,০০০/- টাকা সমন্বয় না করায় আর্থিক বিধি লংঘন।

 

এ ব্যাপারে “কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প “প্রকল্প পরিচালক মোখলেসুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অডিট বিভাগ সংশোধন করে দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি