1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
  3. [email protected] : lalashimul :
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০২:০১ অপরাহ্ন

কেরাণীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পদের পাহাড়

বিশেষ প্রতিবেদন
  • আপডেট : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০২ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারী দুর্নীতি, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া দলিল করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে চলছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হরিলুট। মৃত্যুঞ্জয় ভুয়া দলিলের হাট বসিয়েছেন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। এভাবে কমিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। নামে-বেনামে সম্পত্তি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সরেজিমন তদন্তে দেখা গেছে, ভুয়া দলিলের হাট বসিয়ে মৃত্যুঞ্জয় নিজেই ওই হাটের ক্রেতা সেজে দখলদারিত্ব করছেন। কেউ প্রশ্ন তুললেই তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন রীতিমতো। স্থানীয় একটি দালাল চক্র রয়েছে তার। সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধানে গেলে তাদের হেনস্থা করার জন্য ওই চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদিকে মৃত্যুঞ্জয় হলফ করে বলছেন, আমার বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করে কোনো লাভ হবে না। আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না। আমার হাত কতো লম্বা আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না বলে হুঙ্কার দেন। দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির ইনভেস্টিগেশন টিম সরেজমিনে গেলে মৃত্যুঞ্জয় শিকারী এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে তার সমর্থিত লোকদের ডাকেন। তার দালাল বাহিনীকে অর্ডার দেন- “কোন সাংবাদিক ছবি তুলছে? তোরাও তাদের ছবি তুলে রাখ”। এক পর্যায়ে এই ইনভেস্টিগেশন টিমের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, “আমার যা হবার হয়ে গেছে, যতো পারেন রিপোর্ট করেন। এতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না।”
এদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের অপকর্মের চিত্র বেরিয়ে আসে গণমাধ্যমে।

একাধিক সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে নিউজ প্রচার হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় শিকারী। তবে দুর্নীতির সব কিছু ফাঁস হয়ে গেছে। তথ্যানুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা। দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেশ কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তথ্য গোপন করে ফাঁকি দেয়া হয়েছে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। বর্তমানে দেখা গেছে প্রতিটি পদে পদে জালিয়াতি, দুর্নীতি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রির জন্য অহরহ দলিল সাবমিট করা হচ্ছে। তবে চাহিদামতো টাকা দিলেই সব জায়েজ। এসব কাজের আসল কাজী সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারি ও তার বিশ্বস্ত ডান হস্ত বলে পরিচিত উমেদার লিয়াকত। তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রারের বহিরাগত দলিল লেখক ও দালাল চক্র। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দলিল দাখিল করে। টাকার বিনিময়ে তিনি এসব দলিলে স্বাক্ষর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, কেরানীগঞ্জ-দক্ষিণের সাব রেজিষ্টার মৃত্যুঞ্জয় শিকরারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-স্বেচ্চাচারিতা ও নারী সহকর্মীকে ক‚রুচিপূর্ণ ইঙ্গিতের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমেছে কয়েকটি সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় নিবন্ধন অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দ্রত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভূয়া দলিল করা, একই জমির একাধিক দলিল আবার নির্ধারিত মৌজায় জায়গা না থাকা সত্তে¡ও বেশি জায়গা দেখিয়ে দলিল করা, নারী কর্মচারিকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত এবং দলিল প্রতি চাহিদামতো টাকা না পেয়ে দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে আসছেন সাব-রেজিষ্টার মৃত্যুঞ্জয় শিকারী।
এছাড়া রহস্যজনক কারণে তিনি রবিবার কোন দলিলে সই করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ছুটির দিন ব্যতিত অন্য দিন অফিস করলেও দলিল সম্পন্ন করেন খাস কামরায় বসে। তার এজলাসটি ধূলো ময়লায় ভরে গেছে। এসব বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নামে। বিষয়টি আমলে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদক থেকে নিবন্ধন অধিদপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে সমালোচিত এ সাব রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক অভিযুক্ত মৃত্যুঞ্জয় শিকারীর দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকার বিভাগীয় পরিদর্শক শেখ মোঃ আনোয়ারুল হককে নির্দেশ দেন। তদন্তের অগ্রগতি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আনোয়ারুল হক বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান। খুব শ্রীর্ঘই দুদককে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা নিজের অনুকুলে নিতে উঠে পড়ে নেমেছেন মৃত্যুঞ্জয় শিকারী। তিনি বিভিন্ন কৌশলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজের চেষ্টা করে চলেছেন। এদিকে তার কর্মস্থলের দলিল লেখকদের মধ্যে চলছে চাপা ক্ষোভ। দলিল করার সময় জিম্মি করে টাকা নেয়ার কারণে ফুঁসে উঠেছেন সেখানে দলিল লেখকরা। বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেযার পরেও অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারীকে প্রত্যাহার না করায় তাদের মধ্যে এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রহস্যজনক কারণে অতি দাপুটে ও চতুর এ সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে করে সেখানের দলিল লেখক, কর্মচারি ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা অতি দ্রত সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারীকে বদলি করে তার স্থলে একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।
অভিযোগ রয়েছে, উমেদার লিয়াকত সাব রেজিষ্টারের খুবই ঘনিষ্ট জন। ফাইল ঠেকিয়ে অর্থ আদায়সহ লিয়াকতের মাধ্যমেই সাব রেজিস্ট্রার অনৈতিক ঘুষ বাণিজ্য করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন উমেদার লিয়াকত। কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়েছেন সাব-রেজিষ্টার মৃত্যুঞ্জয় শিকারী। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা ইনকাম, নামে বেনামে সম্পত্তির মালিক মৃত্যুঞ্জয় শিকারীর বিরুদ্ধে দ্রত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সেখানকার কর্মচারীরা। মৃত্যুঞ্জয়ের বক্তব্য রিপোর্টের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নিয়ে আমাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন থাকছে আগামীকালের পর্বে….

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি