1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

টিয়া পাখির দল আনন্দে মেতেছে গুমাই বিলে

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৯ বার দেখা হয়েছে

মাঠজুড়ে সোনালী আমন ধান। কৃষকরা এখন ধান কাটতে ব্যস্ত।এসময়ে এসেছে টিয়া পাখির দল। রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল মুখরিত হয়ে উঠেছে পাখির আগমনে। নবান্ন উৎসবে তারাও আমন্ত্রিত অতিথি।

শীতের মাসে দূর দেশ থেকে খাদ্যের আশায় উড়ে আসে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি। যেসব দেশে শীতের তীব্রতা বেশি, সেখানে এসময়ে পাখিগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে; খাবার থাকে না। বাসা বাঁধার জায়গা থাকে না। কোনো কোনো পাখি হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়।

গুমাই বিলে পাকা ধান খেতে নেমেছে পাখির ঝাঁক। এছাড়া নলুয়া বিল, জুটমিল বিল, পদুয়া বিল, উত্তর রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ বিল, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিলেও এসেছে পরিযায়ী পাখির দল। তাদের ওড়াওড়ি দেখার জন্য ছুটে আসছেন নানা বয়সের মানুষ।

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এভাবে পাখিদের দলবদ্ধ আগমনে ধান কাটায় বিরক্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। এক ঝাঁকে প্রায় ১৫-২০ হাজার টিয়া পাখি ধান খাওয়া শুরু করে।

চন্দ্রঘোনার কদমতলী গ্রামের কৃষক আবদুল কুদ্দুছ জানান, টিয়া পাখির পাশাপাশি সাদা বক, কানি বক, পানকৌড়ি, চিল, দেশিয় প্রজাতির হরেক রকম পাখি বিলে এসেছে। সকালে ও বিকালে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ক্ষেতে গিয়ে বসে ধান খায়। পাখি দেখতে গুমাই বিলে আসছেন মানুষ, তুলছেন ছবি।

গুমাই বিলের চার হাজার একর জমিতে এবার ধান চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। এই পরিযায়ী পাখিদের একদল মাছও শিকার করছে। বিভিন্ন জলাশয়ে করছে দাপাদাপি। বিলের পাশের গাছগুলোতে বেঁধেছে অস্থায়ী বাসা। তাদের কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত। ধান কাটা শেষ হলে এই পাখিগুলোও ফিরে যাবে তাদের ঠিকানায়।

জানা যায়, পরিযায়ী পাখিগুলো প্রধানত আসে উত্তরের দেশ হিমালয়, নেপাল, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীনের জিনজিয়ান, ইউরোপ ইত্যাদি অঞ্চল থেকে, যখন সেখানে শীতের দাপট বাড়ে। বাংলাদেশে মোট ৩১৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি প্রতি বছর আসে যার মধ্যে ২৯০ প্রজাতির পাখি আসে শীতে।

এসব পরিযায়ী পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- হাঁস, রাজহাঁস, কালেম, ডাহুক, ছোট সরালি, খঞ্জনা, চটক, মাঠ চড়াই, কসাই পাখি, গাঙচিল, নীলশির, লালশির, কালো হাঁস, লেঞ্জা হাঁস, ক্ষুদে গাঙচিল, কুন্তিহাঁস, জিরিয়া, চখাচখি পাখি, বালিহাঁস, বড় সরালি, কালিবক, জলময়ূর, ডুবুরি, কোপাডুবুরি, ছোট পানকৌড়ি, বড় পানকৌড়ি, কালো কুট, কাদা খোঁচা বা চ্যাগা, জালের কাদাখোঁচা, ছোট জিরিয়া, বাটান, গঙ্গা কবুতর, রাজ সরালি, পিন্টেল, পাতি সরালি, সাদা বক, দলপিপি, পানমুরগি, কাস্তেচড়া, বেগুনি কালেম, পানকৌড়ি, ঈগল, পিয়াং হাঁস, ভূতিহাঁস, ধুল জিরিয়া ইত্যাদি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, গুমাইবিলে শীতকালে ধান কাটার সময় পরিযায়ী পাখিরা আসে। এসব পাখি বিলে নানা জাতের পোকা, উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বর থেকে ওদের আসা শুরু হয় আর চলে যায় মার্চে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি