1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

দৌলতপুরে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশ পেটালেন এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আসামিকে আটকের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও এজাহার  সূত্রে জানা যায়, গেলো রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চড়দিয়ার এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১শ বোতল ফেনসিডিলসহ জুয়েল রানা নামের একজনকে আটক করে। পরে  উদ্ধারকৃত মাদক ও আসামীকে ছাড়িয়ে নিতে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর এই হামলা চালায়। এসময় তিন পুলিশ সদস্যকে আটকে রেখে মারধরেরও  অভিযোগ উঠে। পরে সোমবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহিদুজ্জামান জাহিদ, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন ও কামরুল ইসলাম।
এদিকে পুলিশ সদস্যদের  মারধরের ঘটনায়  সোমবার ( ১০ জুন) রাতে সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদের দুই ভাতিজাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) আলহাজ আলী। এসময়  মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১ জনকে আসামী করে মামলা করা হয় ।
মামলা দুটিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, মাদক ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি (সরকারী আশ্রয়ন) আব্দুল লতিফ দফাদারের ছেলে জুয়েল রানা (২১) ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন চকদিয়াড় এলাকার ছামিউল লস্করের ছেলে রনি ইসলাম (২২) ও মোঃ মান্না লস্কর এবং মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ রাজিব (৪০)।
এছাড়া এ মামলায় পলাতক আসামীরা হলেন দৌলতপুর আসনের সাংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী ও নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদের চাচাতো ভাই  উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি এলাকার  মৃত রবিউল চৌধুরীর ছেলে তুষন চৌধুরী (৩২) ও মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আরজু চৌধুরী (২৫)। মামলায় অন্য আসমীরা হলেন ওই এলাকার তুপার মন্ডলের ছেলে রানিম (২৭) ও নাঈম (৩৫), চকদিয়াড় গ্রামের মৃত মালেক মন্ডলের ছেলে হাসানুল মন্ডল (৪৭), সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে মেহেদী (২৫), হামিদুল ইসলামের ছেলে  আশিক (৩০), আল্লাদর্গা এলাকার শিপন ইসলামের ছেলে শাফিন (২৮), তুষার ইসলামের ছেলে  তানিম (২৫), জালাল উদ্দিনের ছেলে  আলী রাজ (৩৭), জ্যোতি ইসলামের ছেলে মোঃ টনি (৩৫),  জয়ভোগা বেলপাড়া রবিউল ইসলাম রবির ছেলে পনম (২৮)।
তবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিবারের দুই সদস্যের নাম প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনা তৈরি হয় জনমনে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তার অপব্যাবহার করছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে।
এবিষয়ে জানতে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত  চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আমি একটু ব্যাস্ত আছি এবিষয়ে পরে কথা বলবো।
পুলিশ সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, হামলা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। দুই মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের  (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, দৌলতপুর থানায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এবিষয়ে জানতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পলাশ কান্তি নাথের আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য আহত অবস্থায় এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি