1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ে বিরল প্রজাতীর সাপ উদ্ধার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৮৫ বার দেখা হয়েছে

পঞ্চগড়ে একটি বিরল প্রজাতীর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। লাল প্রবাল রং আর নিরীহ গোছের এই সাপটির নাম লাল কোরাল কুকরি। বাংলাদেশে এই প্রথম দেখা মিলল এই সাপের। পৃথিবীর নানা দেশে এই সাপ দেখা গেলেও বাংরাদেশে দেখা মিললো এই প্রথম।

বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে এই নতুন প্রজাতির সাপটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নতুন প্রজাতির এই সাপটির নাম ‘রেড কোরাল কুকরি স্নেক’ (Red Coral Kukri/Aligodon Kheriensis Snake)। পঞ্চগড়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারকারী মো. সহিদুল ইসলাম এই সাপটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করেছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিআরসি’র প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমন এই সাপটি চট্টগ্রাম নিয়ে যান।

সহিদুল ইসলাম জানান, গত ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজারের পাশের একটি উঁচু জায়গা এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে কাটার সময় একটি সাপ বের হয়ে আসে। তখন এলাকাবাসি আমাকে খবর দেয়। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে ৮টির মত সাপ উদ্ধার করি। সাপগুলো হচ্ছে-রেড কোরাল কুকরি (Red Coral Kukri/Aligodon Kheriensis) ১ টি, দাঁড়াশ সাপ (Rat snake) ২টি গুইসাপ (Lizard) ১টি, হেলে (Buff striped keel back) ২টি, কৃষ্ণ কালাচ (Black krait) ১টি।
উদ্ধারকৃত সাপগুলোর মধ্যে রেড কোরাল কুকরি সাপটি এস্কেভেটর দিয়ে আঘাত পেয়েছে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পরে রাজশাহী থেকে আসা ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমন স্যারের কাছে হস্তান্তর করেছি। অন্য সাপগুলোকে অবমুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক ও সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন জানান, সাপটি মারাত্মকভাবে আহত। জখম হয়েছে। সাপটি বর্তমানে রাজশাহীতে সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, উজ্জল কমলা ও লাল প্রবাল রঙ্গের এই সাপটি অত্যন্ত মোহনীয়। লাল সাপটি মৃদু বিষধারী ও অত্যন্ত নিরীহ। এই সাপটি পৃথিবীর দুর্লভ সাপদের একটি। পৃথিবীতে হিমালয়ের পাদদেশ দক্ষিণে ৫৫ আর পূর্ব-পশ্চিমে ৭০ কিলোমিটার এলাকায় দেখা যায়। সাপটি নিশাচর এবং বেশিরভাগ সময় মাটির নিচেই থাকে। সম্ভবত মাটির নিচে কেঁচো ও লার্ভা পিপড়ার ডিম ও উইপোকার ডিম খেয়ে জীবন ধারন করে। নরম মাটি পেলে মাটি খুঁড়ে ভিতরে চলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। মাটির ভিতরে থাকার জন্য রোসট্রাল স্কেল ব্যবহার করে সাপটি। রোসট্রাল স্কেল হলো সাপের মুখের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত অঙ্গবিশেষ ।

তিনি আরও জানান, সর্বপ্রথম এই সাপের দেখা মেলে ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশের খেরি জেলায়। সেই নামানুসারেই জুওলোজিক্যাল নামকরন করা হয়েছে ‘oligodon kheriensis’। দীর্ঘ ৮২ বছর পর ২০১৯ সালে আবার উত্তর প্রদেশের খেরি জেলায় দেখা গিয়েছিল লাল প্রবাল সাপটি। এছাড়া নেপালের মহেন্দ্রনগর, চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্ক, ভারতের নৈনিতাল, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়। এ সাপটি পূর্ণ বিষধর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাপটির এ বিষয়ে গবেষণা চলছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি