1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কারও কাছ থেকে যেন পিছিয়ে না থাকি ৬ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা: ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫৪ সালাহর জোড়া গোলে লিভারপুলের হ্যাটট্রিক ‘হালি’ এবার ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নারী আহত, চালক আটক সংসার ভাঙছে তথাগত-দেবলীনার! আমিরাতের টি২০ লিগে দল কিনলেন রোনালদোদের মালিক বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত আরও বাড়লো করোনা বাড়লে আবারও বন্ধ হয়ে যাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী যেসব খাতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ জাতির আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে সেনাবাহিনী: স্পিকার রিটার্ন জমা বেড়েছে, করদাতা ছাড়াতে পারে ২৫ লাখ এক সেঞ্চুরি আর আরেক হাফ সেঞ্চুরিতে ২৪ ধাপ এগোলেন লিটন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে ব্যবস্থা নেবো: অর্থমন্ত্রী ময়লাবাহী গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নিয়েছি: তাপস

প্রকল্প অসমাপ্ত রেখে সরে যাচ্ছে পাউবো

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৫৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মূল মেয়াদ অতিক্রমের পর পাঁচবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ‘বাংলাদেশের নদী ড্রেজিংয়ের জন্য ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়’ প্রকল্পের। এবার ষষ্ঠবারের মতো প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। ষষ্ঠবারের মেয়াদে প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে শেষ করে দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির বিশেষ সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কশিমনে পাঠিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবের ওপর ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটিতে খরচ হয়েছে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যয়ের ৫৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিশেষ সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্প থেকে ১০টি ২৫০” কাটার সাকশান ড্রেজার কেনার খাত বাদ দেয়ার প্রস্তাব করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এই ১০টি কাটার সাকশান ড্রেজার কেনার প্রস্তাব বাদ দেয়া হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধিত হবে না।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত খরচ ছিল এক হাজার ৩০৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা কমিয়ে করা হয় এক হাজার ২৫৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সংশোধন এনে খরচ বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ২৯২ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এবার প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই শেষ করতে বিশেষ সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছে বাপাউবো। প্রকল্পটির খরচ ৩৩৮ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার কমিয়ে মোট ৯৫৩ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার টাকায় অসমাপ্ত রেখে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ২০১০ সালের জুলাইয়ে গ্রহণ করা প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। তারপর আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবুও শেষ হয়নি। আরও ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। তবুও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা। সর্বশেষ আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। তবুও কাজ শেষ করতে পারেনি বাপাউবো। তারা যেন এবার নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাপাউবো।
সংশোধনের কারণ হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবো বলছে, প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত চারটি ২৬” ড্রেজারের পরিচালনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জরুরি ভিত্তিতে স্পেয়ার ও পাইপলাইন সংগ্রহ করা; ইতোপূর্বে সংগৃহীত ড্রেজারের বকেয়া এবং ড্রেজার পরিচালনা ব্যয় পরিশোধ করা; ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে ১০টি ২৫০” কাটার সাকশান ড্রেজার সংগ্রহের প্রস্তাব বাদ দেয়া এবং প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প সমাপ্তের জন্য বিশেষ সংশোধন করা।
১০টি ২৫০” কাটার সাকশান ড্রেজার সংগ্রহের প্রস্তাব বাদ দেয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত হচ্ছে, প্রকল্পের অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ১০ সেট ২৫০ মিমি ডিসচার্জ ডায়ার কাটার সাকশন ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়বাবদ ৭০ কোটি টাকার সংস্থান আছে। প্রকল্পের বিশেষ সংশোধন প্রস্তাবে এই সংস্থান বাদ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসময় পর ২৫০ মিমি ডিসচার্জ কাটার সাকশন ড্রেজার বাদ দেয়ার ফলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। পরিকল্পনা কমিশন বিশেষ সংশোধনীর ওপর বেশকিছু মতামত দিয়েছে। কমিশন বলছে, দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে সাত সেট ৬৫০ মিমি ডিসচার্জ ডায়ার কাটার সাকশন ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়বাবদ ৬৪০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা (প্রতি সেট গড়ে ৯১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) সংস্থান আছে। প্রকল্পের বিশেষ সংশোধন প্রস্তাবে এ খাতে ৬৬ কোটি ৯৮ টাকা বৃদ্ধি করে ৭০৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (গড়ে প্রতি সেটে ১০১ কোটি টাকা) সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ভিত্তি ও যৌক্তিকতা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সভায় ব্যাখ্যা করতে পারে।
এছাড়া ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরে তিন সেট ড্রেজার ক্রয়বাবদ ৪৭৫ কোটি চার লাখ টাকা (প্রতি সেট ১৫৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকায় চার সেট ড্রেজার আগামী ৯ মাসে কীভাবে ক্রয় সম্পন্ন করা হবে, তা বোধগম্য নয় বলেও উল্লেখ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এ বিষয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ এম আমিনুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি