1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ছে এদেশ সকল ধর্মের মানুষের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ২০১ জন করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু রোহিঙ্গা ও আটকেপড়া পাকিস্তানিরা দেশের জন্য বোঝা : প্রধানমন্ত্রী জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল : ওবায়দুল কাদের ‘দাঙ্গা লাগিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য’ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা মিটিং করে যাচ্ছি : বাণিজ্যমন্ত্রী জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে চায় টাইগাররা সম্রাট-খালেদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি পচা মাংস পাওয়া গেল সোনাইমুড়ীর ‘হাজী বিরিয়ানী’তে ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে শেখ রাসেল এক ভালোবাসার নাম’ মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যটাও ‘সেই’ রকম : তথ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা দেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী কাশবনে প্রেমিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

প্রকৃতির নৈসর্গিক অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়’

আরএম সেলিম শাহী
  • আপডেট : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৫২ বার দেখা হয়েছে
শেরপুরঃ
শহরের কোলাহল পুর্ণ জীবন, ইট পাথর আর কংক্রিটের গাথুনী আর বছর জুড়ে কর্মব্যস্ততার মাঝে জীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে, থেমে যায় কর্মচা ল্য তখন সবাই চায় প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। জীবনের এক ঘেয়ামী আর ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মনকে প্রফুল­ করতে শহর ছেড়ে চলে আসতে পারেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের প্রকৃতির নৈসর্গিক শোভা মন্ডিত পানিহাটা-তারানি পাহাড়ি এলাকায়।
এখানকার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুড়া জেলার সীমান্তঘেঁষা ঘন সবুজ শ্যামল বন, খরস্রোতা পাহাড়ী ভোগাই নদীর পাহাড়ের সাথে মিতালী আর বৃক্ষরাজি দেখে ভ্রমন পিয়াসীদের মন উদ্বেলিত হয়। তারা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যান শহরের জীবনের কর্মক্লান্তি। প্রকৃতির নিখুত ভালবাসায় হাড়িয়ে যান তারা স্বপ্নের রাজ্যে।
এই স্থানটি ভারত সীমানাঘেষা হওয়ায় চিরসবুজ বাংলা মায়ের অপরুপ দৃশ্য দেখার পাশাপাশি ভারতের সবুজ বনানী দর্শনার্থীদের অনেক বেশি মনের তৃপ্তি মেটায়। পানিহাটা পাদ্রি মিশনের পশ্চিম পাশে উচু পাহাড়ে দাড়িয়ে উত্তর দিকে চাইলে চোখে পড়ে নীলাভ-চিরসবুজ ভারতের পাহাড়ী তুড়া জেলাকে আবছা আবরণের চাদরে জড়িয়ে নিয়েছে কুয়াশার মতো মেঘ কখনো বা কুয়াশা নিজেই। দূরের টিলাগুলো কেবলই লুকোচুরি খেলে এরই আড়ালে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ছোট ছোট পাহাড় গুলোকে ফাঁকি দিয়ে তুড়ার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী ভোগাই। একপাশে তার কাশবন আর অপর পাশে শত ফুট উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড় ও নদী। নদীর টলটলে স্বচ্ছ পানির নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে নুড়ি পাথরগুলো। সামনের একশ গজ দূরে উত্তরে ভারত অংশে পিঁচঢালা আকাবাঁকা রাস্তা পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাহাড়ের বুকচিরে চলে গেছে। আর মাঝেমধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো। চতূর্দিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সাড়ি সাড়ি পাহাড়।
পূর্ব দিকের কয়েকটি পাহাড়ের গা ঘেঁষে ভোগাই নদীতে এসে মিশেছে ছোট একটি পাহাড়ি ঝরণা। তার পাশেই খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় পানিহাটা পাদ্রি মিশন। এখানে আছে ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল। সেখানে শিশু-কিশোরদের কোলাহল। এসব মিলে প্রকৃতি প্রেমীদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়। অবশ্য এলাকার জনগন এই পাহাড়টিকে পানিহাটা নামেই জানেন। কিন্তু এই সৌন্দর্য্যের ভাগটা শুধু পানিহাটাই নিতে পারেনি। এর একটা অংশে ভাগ বসিয়েছে পাশের তারানি গ্রামের পাহাড়। তাই দর্শণার্থীদের জন্য পানিহাটা-তারানি দুটো মিলেই গড়ে উঠতে পারে পর্যটন স্পট। সবুজ চাদরে ঘেরা গারো পাহাড়ে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে চলে যান প্রকৃতির রাজ্যে। যারা শুনেছেন শেরপুরের বন্য হাতির তান্ডব তারা মিশনের পুর্বপাশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি জাতি তথা পেকামারি গারো অধিবাসীদের কাছ থেকে শুনতে পারবেন বন্যহাতির ধ্বংসলীলার কথা। মার্তৃতান্ত্রিক ব্যাবস্থার অধিনে পরিচালিত গারোদের পরিবারের প্রধান নারীরা। তাদের সহজ-সরল জীবন যেন ভ্রমন পিয়াসীদের অবাক করে দেয়। তাদের জীবন সংগ্রাম কাছে থেকে দেখারও শুনার সুযোগ পাবেন এই গ্রামে। দারিদ্র আর বন্যহাতির সাথে লড়াই করে বেচে থাকা এসব গারো আদিবসীদের অকৃত্রিম আতিথিয়েথা দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমন পিয়াসীরা। বর্তমান কৃত্রিমতার যুগে প্রকৃতির নির্মিত সবুজ বনানী দেখে কর্মক্লান্তি ভুলে অনাবিল আনন্দে দিনের আলোতেই ভ্রমন পিয়াসীরা ফিরে যান নিজ গৃহে।
কিভাবে যাবেন:
শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিঃমিঃ সোজা উত্তর দিকে নিজস্ব পরিবহন বা সিএসজি যোগে যাত্রা শুরু করে সরাসরি চলে আসুন নাকুগাও স্থলবন্দর এলাকায়। তার পাশেই সদ্য নির্মিত ভোগাই নদীর ব্রীজের উপর দিয়ে পুর্ব দিকে প্রায় ২-৩ কিঃমিঃ যাওয়ার পর ঘন সবুজ পাহাড় মাড়িয়ে উত্তর দিকে পানিহাটা-তাড়ানি পাহাড়ে ঢুকে পড়ুন। বিনা টিকিটে উপভোগ করুন প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য। যদি নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে আসতে চান তাহলে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় থেকে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাও পরে পূর্ব দিকটায় মোড় নিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হবে। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়।
এই মোড়ে এসেই আবারও গতিপথ বদলিয়ে যেতে হবে সোজা উত্তরে। উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির সবুজ শ্যামলীময় পাহাড়। সেখান থেকে ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পাবেন সবুজের সমারোহ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিশা বা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলেও যাওয়া যায় জেলা শহর থেকে ২০০-২৫০টাকা আর নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই চলে যাবেন আপনার গন্তব্যে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি