1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাশিয়ায় করোনা সংক্রমণে রেকর্ড, তবু লকডাউনে ‘না’ ইরানি তেল ট্যাঙ্কার দখলের চেষ্টা জলদস্যুদের, প্রতিহত করল আলবর্জ ডেস্ট্রয়ার ‘আইএসআই-প্রধান নিয়োগ-জটিলতার অবসান হবে শুক্রবার’ গোপনে’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল চীন, অবাক যুক্তরাষ্ট্র বাতিল হচ্ছে পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে টাইগাররা সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ছে এদেশ সকল ধর্মের মানুষের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ২০১ জন করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু রোহিঙ্গা ও আটকেপড়া পাকিস্তানিরা দেশের জন্য বোঝা : প্রধানমন্ত্রী জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল : ওবায়দুল কাদের ‘দাঙ্গা লাগিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য’ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা মিটিং করে যাচ্ছি : বাণিজ্যমন্ত্রী জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে চায় টাইগাররা

যে কারণে বাড়ছে বজ্রপাত? কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ২৩৫ বার দেখা হয়েছে

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— বন্যা, খরা, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত ইত্যাদির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে বজ্রপাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অতীতের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি জলবায়ুগত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানের পরিবর্তনের ফল তা সহজেই বলা যায়।

আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশবিদদের কথায়, এর অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে দূষণ। গাছ কেটে বহুতল নির্মাণ, গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া, যেখানে সেখানে বছরভর নির্মাণকাজ চলতে থাকায় অত্যধিক মাত্রায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সেই তুলনায় গাছ লাগানো হচ্ছে না। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে বাতাসে গরম ধূলিকণা বাড়ছে, যা বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

এদিকে বাতাসের উপরের পরিমণ্ডলে বর্ষার আগে পরে মে-জুন মাস নাগাদ প্রচুর জলীয় বাষ্প থেকে যাচ্ছে। যখনই উষ্ণ বায়ু উপর দিকে ওঠার চেষ্টা করছে, তখনই অন্যান্য বায়ু ও জলীয়কণার সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। ফলে একেকটা জলীয় কণা ব্যাটারির মতো কাজ করছে। বাজ পড়ছে।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানাচ্ছেন, সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়। সেই কারণে এই মেঘকে বজ্রগর্ভ মেঘও বলা হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিল-জুন মাসে এই বজ্রগর্ভ মেঘের পরিমাণ বেড়েছে। তার একটা অন্যতম কারণ যেমন বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য, তেমনই আর একট কারণ, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দূষণ। দূষণের মাত্রা যত বাড়ছে, গড় তাপমাত্রা তত বাড়ছে। ফলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া একটা ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার পর বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থেকে যায়। সব মিলিয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর এর ফলেই হচ্ছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয়:
বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রতিটি মানুষের সম্যকজ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা ঘরের বাইরে ক্ষেতখামারে কাজ করে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। যেহেতু মেঘের নিম্নদেশের ঋণাত্মক চার্জ এবং পৃথিবীর ধনাত্মক চার্জের স্পার্কিংয়ের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয় এবং এই ক্ষেত্রের মধ্যে যা কিছু পড়ে তা অতিরিক্ত তাপের কারণে পুড়ে যায়। সেহেতু উঁচু স্থান অর্থাৎ উঁচু গাছ, ইলেকট্রিক পোল, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি এরূপ বস্তুর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা যে স্থান বা বস্তু যত উঁচু সে স্থান মেঘের তত সন্নিকটে থাকায় বজ্রপাতের সম্ভাবনা তত বেশি।

বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। মৌসুমে ঘনকালো (ঝড়মেঘ) মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে এবং বৃষ্টি শুরুর আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বেশি নিরাপদ। তবে পাকাবাড়ি সুউচ্চ হলে সেক্ষেত্রে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকতে হবে। বজ্রপাতের সময় জানালার কাছে না থাকাই ভালো। পায়ে রাবারের স্যান্ডেল পরে থাকা এবং পানি ও যে কোনো ধাতববস্তুর যেমন সিঁড়ির বা বারান্দার রেলিং, পানির কল ইত্যাদির স্পর্শ থেকে বিরত থাকা বেশি নিরাপদ। বিদ্যুৎ পরিবাহী যে কোনো বস্তুর স্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। পুকুর বা জলাশয়ে থাকা নিরাপদ নয়।

বজ্রপাতে বাড়ির ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র যেগুলো ইলেকট্রিক সংযোগ বা ডিসের সংযোগ থাকে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা ভালো। নতুবা পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া এগুলো বন্ধ থাকলেও স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে। মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকলে যদি বজ্রপাত হওয়ার অবস্থা তৈরি হয় তাহলে কানে আঙ্গুল দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচু হয়ে বসে থাকতে হবে। তবে মাটিতে শোয়া যাবে না, কেননা মটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। গাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে গাড়ির মধ্যে থাকায় নিরাপদ। তবে মনে রাখতে হবে গাড়ির ধাতব কোনো অংশের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।

টিনের বাড়ির চেয়ে ছনের বাড়ি এমনকি কংক্রিটের দালান বাড়ি বেশি নিরাপদ। তবে সব বাড়িকে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শক্রমে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা লাগাতে হবে। যেসব বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে সেগুলোর সংযোগের সময় আর্থিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে স্থাপন করতে হবে।

তাল জাতীয় সুউচ্চ প্রজাতির গাছ প্রচুর পরিমাণে মাঠের মধ্যে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা বৈদ্যুতিক শকে আহত ব্যক্তিদের মতো। শরীর থেকে দ্রুত বৈদ্যুতিক চার্জ অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আহত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণে বিচলিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি