1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ খননে চলছে ধীরগতিত

আরএম সেলিম শাহী
  • আপডেট : শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৮৮ বার দেখা হয়েছে
শেরপুরঃ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পূনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুণরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় শেরপুর জেলা অংশের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় ১৮ কিলোমিটার নদের ড্রেজিং কাজে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। গত বছরের ৩১ অক্টোবর শেরপুর জেলা অংশের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। উদ্বোধনের পর থেকে সাড়ে ৪ মাসে নদী খনন কাজ প্রাথমিক পর্যায়ের এক কিলোমিটারও শেষ করতে পারেনি। উদ্বোধনের পর থেকে বেশির ভাগ সময় ড্রেইজিং কাজ বন্ধ থাকে। কোন দিন দিনে এক-দুই বার এবং টানা ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকারও রেকর্ড রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় চরবাসী। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এ ড্রেজিং কাজের গতিতে স্থানীয়দের পাশপাশি স্বয়ং শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফলে জেলার সচেতন মহল মনে করছে নদীর নব্যতা বৃদ্ধি, নৌচলাচলে অর্থনৈতিক ভাবে ইতিবাচক ভূমিকা ও সেচকাজে নদীর পানি ব্যবহারের টার্গেট নেয়া এ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটিতে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি।
শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ খননে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি !
বিআইডব্লটি সূত্রে জানাগেছে, সরকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পূনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুণরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে বিভিন্ন নদ-নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথ পুণরুদ্ধারের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সেই প্রকল্পের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ২ শত ২৭ কিলোমিটারের মধ্যে শেরপুর জেলা অংশে ১৮ কিলোমিটার নদী নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে ড্রেজিং করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ শত ৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। প্রকল্পের সময় দেয়া হয়েছে ৪ বছর। শেরপুর জেলা অংশে দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর জেলার তুলশির পর সীমানা থেকে সদর উপজেলার কামারের চর ঘাট পর্যন্ত ১ শত কোটি ২৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার প্রায় ১৩ কিলোমিটার নদের খনন কাজ পায় ঢাকার ওয়ের্স্টান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রা: লিমিটেড। অপর অংশ সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের ৬ নং ভাটি পাড়া থেকে জঙ্গলদি চর পর্যন্ত ৪৪ কোটি টাকার ৫ কিলোমিটার পায় আনোয়ার খান মর্ডাণ কোং । প্রকল্পের মেয়াদ দেয়া হয়েছে ৪ বছর।
গত ১২ মার্চ দুপুরে সদর উপজেলার চর পক্ষীমারি ইউনিয়নের পুরাতন ঘাট এলাকায় নদী খননেন কাজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রেজিং কাজ বন্ধ রয়েছে। এসময় নদীর তীরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে লোক দেখানে মেশিন চালু করেন কিন্তু খনন কাজ বন্ধই রাখেন। পরে ড্রেজিং মেশিনের কাছে গিয়ে কর্মরত প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মচারির কাছে ড্রেজিং বিষয়ে জানতে চাইলে তার কোন কিছু বলতে না চেয়ে তাদের প্রকল্প ব্যবস্থাপককে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। স্থানীয়রা জানায়, সামনে বর্ষ, এসময় খনন কাজ বন্ধ থাকবে। কিন্তু বর্ষায় ওই খননকৃত নদী আবারও ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খননের টাকা পুরোটাই গচ্চা যাওয়ার আশংকা করছে তারা।
এসময় ওয়ের্স্টান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাঃ লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাজেদুল করিম জানায়, আমাদের খনন কাজে স্থানীয়রাসহ নানা জনে বাঁধা গ্রস্ত করে আসছে। ফলে আমাদের কাজে একটু গতি কমেছে। কিন্তু খনন কাজ যথা সময়ে শেষ করা হবে। এছাড়া আমাদের খনন বালু রাখার জন্য যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমাদের ক্যাপাসিটি পাইপের চেয়ে একটু বেশি দুরত্বে। বর্ষায় কাজ বন্ধ থাকলেও পরবর্তি সময়ে এ খননের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানায়।
এদিকে স্থানীয় চরবাসীদের মধ্যে কুলুর চরের মমিনুল, ডাকপাড়া গ্রামের জমির মিয়া এবং নাওভাঙ্গা গ্রামের শফিক জানায়, ড্রেজিং মেশিন সব সময় বন্ধই থাকে। মাঝে মধ্যে বিআইডব্লটি এর লোকজন এলে মেশিন চালু করে। এছাড়া প্রকল্প ব্যবস্থাপকের অভিযোগ গ্রামবাসী অস্বীকার করে বলেন, এখানে কেউ তাদের বাঁধাগ্রস্ত করেন না, এটা তাদের অজুহাত।
এদিকে এ খনন কাজের বিষয়ে সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন জানায়, আমি যদিও খনন বিষয়ে কিছু জানি না, তবে ডিসি মহোদয়ের মাধ্যমে আমাদের সদর উপজেলার চরপক্ষী মারি গ্রামে নদী তীরে প্রস্তবিত ৬ একর জমির উপর গুছ গ্রামের মাটি ভরাটের চুক্তি ছিলো ওই ড্রেইজিং এর বালু দিয়ে। সে হিসেবে আমি প্রায় প্রতিদিনই ভরাট কাজ দেখতে গিয়ে দেখেছি তাদের কাজ বন্ধ থাকে। তবে আমার উপস্থিত টের পেয়ে কাজ শুরু করে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের চুক্তি ছিলো ওই ৬ একর জমি বালু দিয়ে ভরাট করতে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে। অথচ তারা সেটি ভরাট করেছে সাড়ে চার মাসে।
নৌ-পরিবহন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জিএম সাব্বির কাজের গতি কম হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, প্রথমত উদ্বোধনের পর আমাদের ড্রেইজিং মেশিন সেট করতে এবং বালু রাখার পর্যাপ্ত স্থান না পাওয়ায় আমাদের কাজ একটু কম হচ্ছে। তবে জায়গার সংকুলন পেলেই আমাদের গতি বাড়বে এবং আরো ড্রেইজিং মেশিন আসবে। সেক্ষেত্রে সময় মতোই আমাদের কাজ শেষ করতে পারবো।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি