1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:৪০ অপরাহ্ন

শ্রীপুরে তিন সন্তানের জননীর সাথে পরকীয়ার অভিযোগ, সালিশি বৈঠকে মীমাংসা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা)প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুরের দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে তিন সন্তানের জননীর সাথে নাজমুল শেখ নামের এক যুবকের পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক মাতব্বররা মিলে সালিশি বৈঠকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে । এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের মাথা ঘাঁমানো নিষেধ করলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম সাবু।

অভিযোগটি করেছেন শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামের রাজমিস্ত্রি হানিফ শেখের স্ত্রী মিতা বেগম (২৫)।
ভুক্তভোগী মিতা বেগম জানান, আমাদের বাড়ির পাশে আমার মামা শশুর মোকর শেখের ছেলে নাজমুলের সাথে আমার প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক হয়। নাজমুল আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে নাজমুলের সন্তান আমার গর্ভে আসে। বিষয়টি আমি নাজমুলকে জানালে সে কোন গুরুত্ব দেয় না। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি স্থানীয় মেম্বার শরিফুল ইসলাম সাবু নানাকে জানাই। তিনি আমাকে এগুলো কাউকে না বলার জন্য বলেন এবং বলেন আমরা এটা মীমাংসা করে দেবো।
এরই এক পর্যায়ে আমার পেটে নাজমুলের চার মাসের সন্তান। বিষয়টি আমার স্বামী জেনে যাওয়ায় সে আমাকে তার ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আমি কয়েকবার নাজমুলের বাড়িতে গেলে তার মা চাচীরা সবাই মিলে আমাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। পরে মেম্বার ও মাতব্বররা আমার নানী শাশুড়ির বাড়িতে আমাকে রেখে আসে। আমি আমার নানী শাশুড়ির বাড়িতে প্রায় পাঁচ দিন থেকে যাই। পরবর্তীতে আমার শ্বশুর সালিশের কথা বলে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এবং মঙ্গলবার বিকেলে সালিশি বৈঠক বসে। সালিশে নাজমুল আমার সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথাগুলো অস্বীকার করে। আমি কোন প্রমাণ দেখাতে না পারায় মেম্বার ও উপস্থিত মাতব্বররা গর্ভের সন্তান আমার স্বামীর বলেই রায় দেন। এবং নাজমুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানার ঘোষনা দেন। টাকাটা আগামী রবিবার দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি কোন টাকা চাইনা আমি আমার সন্তানের স্বীকৃতি স্বরূপ নাজমুলের সাথে সংসার করতে চাই। নাজমুল ও তার পরিবারের ভয়ে আমরা আইনি সহয়তা নিতে পারছিনা।

এ বিষয়ে তার স্বামী হানিফ শেখ বলেন, নাজমুল আমার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছে এ বিষয়টা আমি কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। গ্রামের মাতব্বরদের চাপে আমার স্ত্রীকে গ্রহন করা লাগছে। আমার স্ত্রীর গর্ভে নাজমুলের সন্তানের দায় আমি নিতে চাই না। আমি নাজমুলের সঠিক বিচার চাই।
এ ঘটনার পর থেকে নাজমুল আত্ম গোপনে রয়েছে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার পরিবারের কারো সাথেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম সাবু জরিমানার বিষয়টা স্বীকার করে বলেন, এই বিষয়টা আমরা গ্রামবাসি মিলে সমাধান করে দিয়েছি। এটা নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ব্যথা কেন?এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ তাসমীম আলম জানান এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি