1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:২২ অপরাহ্ন

সওজের বিষফোড়া রফিক-ফজলু সিন্ডিকেটের দূনীতি ও ভুয়া টেন্ডারের অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রী পরিষদ ও দুদক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ : সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরে ক্ষমতাবান বলয়ের দূর্নীতির ত্রী-দানবীয় সিন্ডিকেটের নাম ডা .রফিক-ফজলু। পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে এ সিন্ডিকেটর বিরুদ্ধে, রয়েছে তাদের বিশাল বাহিনী,সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগন, ক্যাডার বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ব্যাক্তিও রয়েছেন জড়িত।যাদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় না কেউ। ভূয়া টেন্ডার, ঘুপচি টেন্ডার, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়া, অর্থনৈতিক কোডের আইন ভঙ্গ করে পুরানো বিলের চেক পাশ করিয়ে দেয়া, টেন্ডার না করিয়ে বেআইনিভাবে আবেদনের মাধ্যমে কাজের সময় বর্ধিতকরণের আদেশ দেয়া, আইন ও ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে নিজের পি.এস হিসেবে নিযুক্ত করাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এভাবে নয়ছয় করে এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। তার নেতৃত্বেই চলে সওজের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কমিশন ছাড়া কোনো বিলেই সই করেন না সওজের কথিত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। কমিশনের একটি বড় অংশ আদায় করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ফজলুল হকের মাধ্যমে। সরকারি অর্থ অপচয় করে নিজেদের পকেটস্থ করাই তাদের মূল কাজ। দেশের সেবা করার পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছাতেই মহাব্যস্ত তারা। রয়েছ ঘুপচে টেন্ডারের অভিযোগ, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে বর্তমান রঅর্থবছর পর্যন্ত সমস্ত টেন্ডারের মালামাল ও উক্ত মালামাল ব্যবহারের ক্ষেত্র তদন্ত করলেই সকল রহস্য বেড়িয়ে আসবে। কম্পিউটার অপারেটর থেকে শুরু অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রত্যকেই এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। নামে, বেনামে এদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ, আলিশান ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসা বাণিজ্য, বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংক-ব্যালেন্স রয়েছে।  কম্পিউটার অপারেটরের সন্তানেরাও বিদেশে পড়ালেখা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের এ টাকার উৎস কোথায়?

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রায় অর্ধশত ঠিকাদার রয়েছে যারা অধিদপ্তরের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। প্রত্যেকেই ভুয়া টেন্ডারে অংশগ্রহন করে বিল জমা দিয়েছে। কাগজে কলমে এরা টাকা পাওনা থাকলেও বাস্তবে এ মালামাল সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা অথবা কোথা থেকে সংগ্রহ করে মালামাল সরবরাহ করেছে তা কঠোরভাবে দূর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক যাচাই করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। মূলত ২০১২-১৩ অর্থ-বছর থেকেই দূর্নীতির মহা উৎসব চলে আসছে।
বর্তমানে রফিক সিন্ডিকেটের একটি বিরাট অংকের নতুন ও পুরানো বিল ছাড় করানোর তোড়জোড় করছে। নিয়মানুসারে ফান্ড বরাদ্দ পাওয়ার পর টেন্ডার আহ্বান করা বিধান। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হচ্ছে তা ব্যতিক্রম। ফান্ড বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চেক বিতরন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটু সজাগ হলেই বিপুল পরিমান অনিয়ম উৎঘাটন করা সম্ভব হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এ জাতীয় একটি বড় বরাদ্দ ভাগবাটোরা করার পায়তারা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একই প্রক্কলনের (Estimate) ভিতর একই আইটেম বারবার পাশ করা হয়েছে তার তথ্য প্রমান রয়েছে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির কাছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট (ঠিকাদার ও কর্মচারী-কর্মকর্তা) মিলে অনিয়মের বীজ বপন করেছে। উল্লেখ্য যে, যে পরিমান ফান্ড বরাদ্দ হয়েছে এবং সে পরিমান মালামাল সংরক্ষণ বিভাগে মজুদ রয়েছে কিনা তা যাচাই করলেই সমস্ত তথ্য ও অনিয়মের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, টেকসই মহাসড়ক নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট, সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ শীর্ষক প্রকল্পে দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ বাংলা ট্র্যাক লি. (লোকাল এজেন্ট) এবং বিটিও, সিঙ্গাপুর মূল ম্যানুফেকচারার এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন নিয়ে ৬টি কাজের মধ্যে ৪টি কাজই প্রদান করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুল হকের মাধ্যমে লোকাল এজেন্টের কাছ থেকে বড় ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এলওসি-এর সমস্ত কাজ রফিক-ফজলু ঠিকাদারের সাথে স্পেসিফিকেশন নির্দিষ্ট করেন। যাতে অন্য ঠিকাদাররা ডিসকোয়ালিফাই হন তার ব্যবস্থা নিয়ে একই ব্যক্তির মাধ্যমে যে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন তা সওজের সবার মুখে মুখে। প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন ৮/১০ জন নিয়ে অফিসে দুপুরের খাবার খাওয়াসহ বিভিন্ন আমোদ করেন যা অফিসিয়াল নিয়মবহির্ভূত
অভিযোগ রয়েছে, অর্থনৈতিক কোডের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ৫ বছরের পুরানো বিল চলতি আর্থিক বছরের টাকা থেকে চেক প্রদান করতে কারখানা বিভাগ, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী গুঞ্জন বড়ুয়াকে মৌখিক নির্দেশ দেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া কয়েকশত কোটির টাকার অনিয়ম ও অপচায়ের তথ্য সবলিত নথি পএ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতর কাছে রয়েছে। বিস্তারিত পরের পর্বে থাকছে জানা গেছে, ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতাভুক্ত সকল যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি সাপ্লাইয়ারকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিভাগ, ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও GD: ০৫, ১১, ১৪, ১৭, ১৯ ও ২৩ এর মাধ্যমে আনয়নকৃত মালামাল পোর্ট থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টকে অন্যায়ভাবে সরকারি টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম স্টেক ইয়ার্ডে আনয়ন এবং বিভিন্ন জোনকে খরচ দিতে বাধ্য করেন প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। নামমাত্র ইনস্পেকশন করিয়ে টাকা ছাড় দিয়ে দেন তিনি। অথচ উক্ত ইনস্পেকশন কমিটি এলওসি’র জন্য করা হয়নি। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং–02/ACE-RHD/MW-DK/2017-2018, তাং-20-১১-২০১৭ ইং এর মাধ্যমে সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আজমিরি ইন্টারন্যাশনাল-কে নিয়োগ করা হয়েছিল তাকে জুলাই/২০২০ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত আইনবহির্ভূতভাবে সময় বর্ধিত করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এলওসি-২ এর অধীন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আগত মালামাল নির্ধারিত পূর্বের ঠিকাদারের মাধ্যমে ছাড় করান। পরবর্তীতে তিনি জুলাই/২০২১ থেকে এপ্রিল/২০২২ পর্যন্ত টেন্ডার না করিয়ে সময় বর্ধিত করেন এবং একই ঠিকাদারের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেন। যার ফলশ্রুতিতে নির্বাহী প্রকৌশলী সওজ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিভাগ, তেজগাঁও, বিভাগের স্মারক নং-৯৯৮, তাং-০৫-১০-২০২১ এর মাধ্যমে ২টি রিগ মেশিন ছাড় করার। এছাড়া আরও অনেক মালামাল ছাড় করানো হয়েছে। এছাড়াও আইন ও ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে সকল প্রকার আর্থিক অনিয়মের কাজ করার জন্য প্রকৌশলী স্বপন কুমার মৃধাকে নিজের পিএস হিসেবে নিযুক্ত করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। যার স্মারক নং-১০২৭(১১), তাং-২৮-১০-২০২১। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার মৃধার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৫ কোটি ৯৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৩ টাকার মোট ২৫টি অডিট আপত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। যেগুলোর একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। GD: ০৯ কন্ট্রাক্টে সর্বনিম্ন ২৫ টন হেভীওয়েট টায়ার ক্রেনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ২৫ টন টায়ার ক্রেন সংগ্রহ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেন প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।
দেশের সব সড়ক-সেতু নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫৮৫ কোটি ভারতীয় ঋণের টাকায় প্রায় ৪০০ ট্রাক কিনেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। কিন্তু এসব ট্রাকের জন্য প্রয়োজনীয় চালক পর্যন্ত নেই। এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় এক্সক্যাভেটর, বুলডোজার, ট্রলি, অ্যাসফাল্ট প্ল্যান্ট, কম্প্রেসর ট্রলি, হাইড্রোলিক বিম লিফটার, মোটর গার্ডার, রিগ মেশিনসহ ৮৫০টি নির্মাণযন্ত্র কিনেছে সওজ। কিন্তু এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য কোনো অপারেটর নেই সংস্থাটির। জনবলের সংস্থান না রেখে এ ধরনের যন্ত্রপাতি কেনায় এগুলো ব্যবহার করতে পারছে না সংস্থাটি। আবার সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণযন্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে সওজের র্শীষ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে।
এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির সকল তথ্য প্রমানই রয়েছে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির কাছে, যা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে। এসব অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখছে দুদক ও মন্ত্রী পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটি। গত ৭ সেপ্টেম্বর রফিক-শামিম-ফজলু সিন্ডিকেটের নানান ভূয়া টেন্ডার এর আর একটি পৃথক অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করার নির্দেশ দেন সড়ক ও জনপদ সচিব (স্মাঃ ৩৫.০০.০০০০.০২৮.২৭.০০৫.২২-২৮৯)

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি