1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : জাতীয় অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনীতি
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

সবুজের টানে পর্যটকরা সুন্দরবনে

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

যান্ত্রিকতা ও কর্মব্যস্ততা ভুলে সবুজের টানে অবকাশযাপনে  ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা ছুটছেন সুন্দরবনে। শুক্র-শনিবার (২ ও ৩ সেপ্টেম্বর)ছুটির দিন হওয়ায় অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন জীববৈচিত্রে ভরপুর পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে।

দীর্ঘ তিন মাস পর বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর করমজল, কটকা, কচিখালী, পক্ষীর চর, ডিমের চর, তিনকোনা, হারবাড়িয়া, কোকিলমোনি, হিরণপয়েন্ট, দুবলারচর ও আলোরকোলে হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন দিন-রাতে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ নানা স্থল ও জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল এই বন। সুন্দরবনের মৎস্য প্রজনন মৌসুমের জন্য গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপশি পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়াও হয়।

তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ায় ভ্রমণ পিপাসুদের স্বাগত জানাতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান। আর প্রস্তুত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ অন্যান্য স্পটও। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার পর্যটক সংখ্যা দুই থেকে তিনগুণ বাড়ার আশা করছে বনবিভাগ। তাতে বাড়বে রাজস্ব। একই সঙ্গে বনজীবীরাও পাস নিয়ে ঢুকছেন সুন্দরবনে।

অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে দর্শনার্থীদের। রোমাঞ্চকর ভয় আর শিহরণ, সঙ্গে প্রকৃতির নৈসর্গিকতা মুগ্ধ করে যে কাউকে।

করমজল, হারবাড়িয়া, দুবলা, কটকা, কচিখালী, নীলকমলসহ সমুদ্র তীরবর্তী ও বনাঞ্চলের সবকটি পর্যটক স্পট দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের এ বনে স্বাগত জানাতে ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ মালিকরা নতুনভাবে সাজিয়েছেন লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান। আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় দারুণ উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা।

পদ্মা সেতুর কারণে ভ্রমণ সহজ হওয়ায় আশার আলো দেখছেন ট্যুর ব্যবসায়ীরা। এবার পর্যটক সংখ্যা দুই থেকে তিনগুণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে বনবিভাগ। এতে বাড়বে রাজস্ব আয়ও।

ছুটিতে ঢাকা থেকে সহকর্মীদের নিয়ে ঘুরতে আসা মাহমুদ হাসান নামে এক পর্যটক বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়েছি। দেশের অন্য দর্শনীয়স্থানগুলোর চেয়ে সুন্দরবন ভ্রমন একটু আলাদা। লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকায় করে সুন্দরবন ভ্রমন করে বেশ আনন্দ পেয়েছি।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ  সম্পাদক এম নাজমুল আজম ডেভিড বাংলানিউজকে বলেন, ৩ মাস বন্ধের পর আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছে এখানে। পদ্মা সেতু পার হয়ে মোংলা থেকে অনেক পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবর পেয়ে পর্যটকরা পরিবার নিয়ে ছুটে আসছেন এখানে। বনে পর্যটকদের আগমন প্রতিদিনই বাড়ছে। শুক্র ও শনিবার সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

যেভাবে যাবেন: একদিনেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারেন। ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে গ্রিনলাইন, সোহাগ, হানিফ,এনা,ঈগল, এ কে ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন এসি/ননএসি বাস প্রতিদিন খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এছাড়া সায়দাবাদ থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, ফাল্গুনী পরিবহন, সুন্দরবন, পর্যটক, বনফুলসহ বিভিন্ন বাস খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এসব বাসে পদ্মা সেতু পার হয়ে আগের তুলনায় খুব কম সময়ে খুলনায় পৌঁছানো যায়।   এছাড়া খুলনায় ট্রেনে এবং যশোর পর্যন্ত বিমানে যাওয়া যাবে। পাশাপাশি নৌপথেও আসা যায়। খুলনায় নেমে লোকাল বাসে বাগেরহাট, মোংলা যাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি মোংলায় অনেক বিলাসবহুল বাসে আসা যায়।

মোংলা থেকে করমজল লঞ্চ বা ট্রলারে মাত্র ৪৫ মিনিটের পথ হওয়ায় দিনে যেয়ে দিনে ফিরে আসার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ভ্রমণে তুলনামূলক খরচও কম। খুলনার বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ ঘাট থেকেও সুন্দরবন যাওয়া যায়।

ট্যুর অপারেটররা বন বিভাগের কাছ থেকে ভ্রমণের অনুমতিসহ সবকিছুর দায়িত্ব নেন। খুলনা ও মোংলায় রয়েছে এমন শতাধিক ট্যুর অপারেটর। ঢাকাতেও আছে। সুযোগ আছে খুলনার কয়রা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে সুন্দরবন দেখার। ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনিও সময় করে বেড়িয়ে যেতে পারেন সবুজে ঘেরা সুন্দরবন থেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি